লেখক: আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া (আরিফ শামছ্)
বর্তমান বিশ্বে “অসাম্প্রদায়িকতা” ও “গণতন্ত্র” এমন দুটি শব্দ, যেগুলোর আদর্শ শুনলে মনে হয়—এগুলোই মানবমুক্তির চূড়ান্ত পথ। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এই উচ্চ আদর্শের আড়ালেই মুসলিম সমাজ আজ এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। অসাম্প্রদায়িকতার নামে ধর্মবিমুখতা, আর গণতন্ত্রের নামে সংখ্যার দাসত্ব—এই দুই শক্তি ধীরে ধীরে ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম স্বকীয়তাকে ক্ষয় করে দিচ্ছে।
ইসলাম ধর্ম কখনোই সাম্প্রদায়িকতা শেখায় না। বরং ইসলামই প্রথম বিশ্বকে শিখিয়েছিল—“লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন”—অর্থাৎ তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আর আমার ধর্ম আমার জন্য।
ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যেখানে পক্ষপাতিত্ব, অন্যায়, বৈষম্য বা বর্ণভেদ নেই। কিন্তু আজ মুসলমানদের বড় একটি অংশ নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়কে গোপন করতে, কিংবা হালকাভাবে নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে—কেউ আধুনিকতার নামে, কেউবা পেশাগত নিরাপত্তার কারণে। এভাবে ধীরে ধীরে মুসলিম সমাজ নিজের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি হারাচ্ছে।
এই সুযোগেই সক্রিয় হয়ে উঠছে সাম্প্রদায়িক ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো। তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে, কিন্তু ইসলামের চেতনাকে বিকৃত করে। ফলে একদিকে যেমন ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ইসলামের প্রতি বিভ্রান্ত হচ্ছে।
এটাই আজকের দুঃখজনক বাস্তবতা—অন্যেরা নয়, আমরা নিজেরাই নিজেদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি।
অথচ ইসলামই সেই ধর্ম, যা মানুষকে সত্য, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ইসলামী সমাজে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকারী। তাই সত্যিকার অসাম্প্রদায়িকতা হলো ইসলামি ন্যায়নীতির আলোকে মানবতার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা—ধর্মহীনতা নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো।
আজ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে নিজেদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধে ফিরে আসা। রাজনৈতিক প্রভাব বা সামাজিক চাপের কাছে নয়, বরং আল্লাহভীতি ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলা।
সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক সমাজ সেই যেখানে প্রত্যেকে নিজের ধর্ম পালন করতে স্বাধীন, কিন্তু কেউ অন্যের বিশ্বাসকে অবমূল্যায়ন করে না।
এই চেতনা থেকেই শুরু হতে পারে নতুন আলোর যাত্রা—ন্যায়ের পথে, ইসলামের পথে, মানবতার পথে।
---
No comments:
Post a Comment